বিবিধ

যাকাত ক্যালকুলেটর ২০২২ । যাকাতের সঠিক হিসাব করার পদ্ধতি ২০২২

যাকাত ক্যালকুলেটর ২০২২ বা যাকাত হিসাব করার নিয়ম ২০২২:  আমরা অনেকেই যাদের উপর যাকাত ফরজ হয়েছে, তারা যাকাত প্রদান করতে চাইলে দেখা যায় যে, কোন জিনিসের কতটুকু পরিমান যাকাত দিব তা সঠিকভাবে বুঝতে পারি না। সে ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন মাধ্যমে যাকাত ক্যালকুলেটর করার নিয়ম জানতে হয়। আমাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা যারা যাকাত প্রদান করতে চান, তাদের যাকাত ক্যালকুলেটরের সঠিক নিয়ম, সহজ পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে। আশা রাখছি আপনাদের এটা কাজে লাগবে।

যাদের সামর্থ্য আছে বা যাদের উপর যাকাত ফরজ হয়েছে, তারা যদি যাকাত না দেন তাহলে তাদের জন্য আল্লাহ কর্তৃক শাস্তি রয়েছে। এই সব মানুষকে আল্লাহ তাআলা হাশরের ময়দানে বলবেন, “তোমার জন্য জান্নাত আছে, কিন্তু তুমি সেই জান্নাত পাবে না কারণ, সেই জান্নাতের ট্যাক্স তুমি পৃথিবীতে দিয়ে আসোনি”। তাই আপনাদেরকে বলতে চাই গরিবের হোক তাদেরকে দান করুন । যাকাত সম্পর্কে আমরা সবাই জানলেও এর গভীরতা খুব কম মানুষই জানে। আমাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আসুন আমরা জেনে নিই, যাকাত কি? যাকাত কাদের উপর ফরজ? এবং যাকাত ক্যালকুলেটর সঠিক নিয়ম।

যাকাত ক্যালকুলেটর এর সঠিক নিয়ম ২০২২

যাকাত কাকে বলে? যাকাতের পরিপূর্ণ অর্থ হল: পবিত্রতা। যাকাত এজন্যই প্রদান করা হয় যাতে আমার আপনার মন পবিত্রতা অর্জন করে, সম্পদের বৃদ্ধি ঘটে এবং সম্পদ পরিষ্কার হয়।
সামর্থ্যবান ব্যক্তি, যারা সঠিক নিয়মে যাকাত প্রদান করেন না, তাদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা:) একটি বাণী এরশাদ করেন, যে ব্যক্তিকে আল্লাহ ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ করে রেখেছে, সে যদি তার নির্দিষ্ট সম্পদের যাকাত না দেয়, তাহলে সেই যাকাত হাশরের ময়দানে তাকে বিষধর সাপ হয়ে কামড়াবে আর  বলতে থাকবে ‘আমি তোমার মাল ও তোমার সঞ্চিত সম্পদ’ (সহিহ বুখারী ১৪০৩)

আরো দেখুনঃ  যাকাত দেওয়ার নিয়ম ২০২২ । যাকাত হিসাব কিভাবে বের করবেন জেনে নিন

যাকাত কখন ফরজ হয়?

যাকাত তখনই ফরজ হয়, যখন আপনি একজন মুসলিম, আপনি কারোর দাস নন, আপনার কোন ঋণ নেই, আপনি শরীয়ত মোতাবেক নির্দিষ্ট সম্পদের মালিক হয়েছেন‌, এই কয়টি  বিষয় যখন দেখবেন আপনার সাথে মিলে গেছে তখনই বুঝে যাবেন যে আপন উপর যাকাত ফরজ হয়ে গেছে।

যাকাত স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক এমন মুসলিম নর-নারী আদায় করবে, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে। তবে এর জন্য শর্ত হলো নিম্নরুপ:-

১.সম্পদের উপর পূর্ণাঙ্গ মালিকানা থাকতে হবে। ২. সম্পদ উৎপাদনক্ষম ও বর্ধনশীল হতে হবে।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে।
৪. সারা বছরের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সম্পদ থাকলে যাকাত ফরয হবে।
৫. যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য ঋণ মুক্ত হওয়ার পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে।
৬. কারো কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ একবছর থাকলেই শুধু এই সম্পদের উপর যাকাত ফরজ হবে।

যাকাত ক্যালকুলেটর ২০২২

যাকাতের নিসাব: যাকাত ক্যালকুলেটর এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার কত টাকা যাকাত দেওয়া লাগবে সেই সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারবেন।

আরো দেখুনঃ  যাকাত দেওয়ার নিয়ম ২০২২ । যাকাত হিসাব কিভাবে বের করবেন জেনে নিন

ক. সোনা ৭.৫ তোলা=৯৫.৭৪৮ গ্রাম (প্রায়)।
খ. রুপা ৫২.৫ তোলা=৬৭০.২৪ গ্রাম (প্রায়)। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৩৯৪, আল ফিকহুল ইসলামী : ২/৬৬৯)
দেশি বিদেশি মুদ্রা ও ব্যবসায়িক পণ্যের নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে সোনা – রুপা কে পরিমাপক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে ফকির-মিসকিন দের জন্য যেটি বেশি লাভজনক হবে সেটিকে পরিমাপক হিসেবে গণ্য করা উচিত। তাই মুদ্রা ও পণ্যের বেলায় বর্তমানে রুপার নিসাব পরিমাপক হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং যার কাছে 52.5 তোলা সমমূল্যের দেশি বিদেশি মুদ্রা বা ব্যবসায়িক পণ্য মজুদ আছে তার উপর যাকাত ফরজ হবে।
যে সম্পদের উপর যাকাত ফরয, তার ৪০ ভাগের একভাগ (2.5%) যাকাত দেওয়া ফরজ। সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করে শতকরা আড়াই টাকা বা হাজারে 25 টাকা হারে নগদ অর্থ বা ওই পরিমাণ টাকার কাপড় চোপড় বা অন্য কোন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দিলেও যাকাত আদায় হবে। (আবু দাউদ, হাদিস:১৫৭২, সুনানে তিরমিজি, হাদিস:৬২৩)

যে সব সম্পদের যাকাত ফরজ হয়: সব সম্পদের যাকাত ফরয হয় না। শুধু সোনা- রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু এবং ব্যবসায়ী পণ্যের যাকাত ফরয হয়। সোনার অলংকার সব সময় বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারে ব্যবহার না করা হোক সর্ব অবস্থায় তার যাকাত দিতে হবে।

আরো দেখুনঃ  যাকাত দেওয়ার নিয়ম ২০২২ । যাকাত হিসাব কিভাবে বের করবেন জেনে নিন

(আবু দাউদ শরিফ : ১/২৫৫, নাসায়ি, হাদিস : ২২৫৮)
ব্যাংক ব্যালান্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, শেয়ার সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও যাকাত ফরজ।

১. নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্য এর ক্ষেত্রে নিসাব পরিমাণ হবে 52.5 তোলা রূপার মূল্যমান, যা যাকাতের হার হবে সম্পূর্ণ মূল্যের 2.5 শতাংশ।

২. সোনা রুপা ও সোনা রুপার তৈরি অলংকার এর ক্ষেত্রে, সোনার হিসাব হবে  7.5 তোলা আর রুপার হনসাব হবে 52.5 তোলা,যা যাকাতের হার হবে 2.5 শতাংশ।

৩. কৃষিজাত পণ্য ক্ষেত্রে  নিসাব পরিমাণ হবে ২৬ মত ১০ সের  আর যাকাতের হার হবে ১০ শতাংশ।

৪. খনিজ দ্রব্য ক্ষেত্রে, নিসাব হবে যেটুকু পরিমাণ থাকবে তার উপরই 20 শতাংশ হারে যাকাত হবে।

৫. পালিত পশুর ক্ষেত্রে
* ভেড়া – ছাগল: ৪০-১০০ টি থাকলে ১টি যাকাত দিতে হবে।
* গরু-মহিষ: ৩০ থেকে ৩৯ টি থাকলে ১টি যাকাত দিতে হবে।
* উট: ৫ থেকে ৯ টি থাকলে ১ টি যাকাত দিতে হবে।

৫. শেয়ার, ব্যাংকনোট ও স্ট্রোকের ক্ষেত্রে নিসাব পরিমাণ হবে 52.5 তোলা রূপার মূল্যমান, যার যাকাত দিতে হবে 2.5 শতাংশ।

৬. অংশীদারি কারবার ও মুদারাবা এর ক্ষেত্রে নিসাব হবে ৫২.৫ তোলা রূপার পুল্লমান যাকাত দিতে হবে ২.৫ শতাংশ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button