প্রযুক্তি

অন পেজ এসইও(On-Page SEO) কি? কিভাবে অন পেজ এসইও করতে হয়?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও কিভাবে করবেন

এসইও সম্পর্কে অনেকেই শুনেছেন। এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন মূলত আপনার  ব্লগ পেজকে অপটিমাইজেশন করে অর্থাৎ গুগল-সার্চে রেংক করাতে সাহায্য করে। গুগলের যদি আপনার পেজ রেংক করে তাহলে অবশ্যই সেই পেজে ট্রাফিকের পরিমাণ বেশি হয়। ইনফোগ্রাফিক্স এবং ব্লগ রিলেটেড পেজগুলোতে এসিও করার দরকার পড়ে। আপনার ওয়েবসাইট এর ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য অবশ্যই এসইও করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের এসইও করে যে তার মধ্যে রয়েছে অনপেজ এসইও, অফ পেজ এসইও এবং টেকনিকাল টেকনিক্যাল এসইও।

অন পেজ এসইও (On Page SEO)

এ ধরনের এসইও মূলত একটি পেজে থাকা সকল বিষয়ের উপর ফোকাস করে। গ্রাহক কি ধরনের প্রশ্ন করেছে সেটি ভালভাবে যাচাই করে অর্থাৎ কিওয়ার্ড রিসার্চ করে সে বিষয়ে ব্লগ লিখে ব্লগ পেজ কে রেঙ্ক করানো যায়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে ব্লগ পেজ তৈরি করতে হবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ করে কোন বিষয়ে বেশি সার্চ হয় সেগুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে এবং যে বিষয়গুলোতে বেশি সার্চ হয় অথবা কম্পিটিশন কম সেগুলো ক্ষেত্রে আপনি ব্লগ তৈরী করলে সে ব্লগ পেজ রেঙ্ক করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই অবশ্যই ভালো ভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে।

ব্লগে ব্যবহার করা শিরোনাম, ট্যাগ, অভ্যন্তরীণ লিংক, ইউ আর এল এবং বিষয়বস্তু অপটিমাইজ করে অনপেজ এসইও করা যায়। অনপেজ এসইও এর সাথে অফ পেজ এসইও এর প্রধান পার্থক্য হল অনপেজ এসইও ওয়েবসাইট এর সার্চ পারফরম্যান্স অপটিমাইজ করে।
অনেকেই মনে করে অনপেজ ২০২২  সালে ঠিকভাবে কাজ করে না। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা অনপেজ এসইও 2022 সালের আগের মতোই কাজ করে। গুগোল ” হাউ সার্চ ওয়ার্কস” এই শিরোনামে বলেছে গুগোল বিগত দিন গুলোর তুলনায় আরও স্মার্ট হয়ে গেছে এবং গুগোল ক্রলার এখনো কিওয়ার্ড এর উপর ভিত্তি করে আপনার পেইজ কে অপটিমাইজ করে।
যেসকল পেজ অথবা পোস্ট এ কিওয়ার্ড অপটিমাইজেশন করা হয়েছে সেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম পৃষ্ঠায় থাকে।

আরো দেখুনঃ  সার্চ ইঞ্জিন কি? সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে - জেনে নিন

 

কনটেন্ট কে কিভাবে এসইও এর মাধ্যমে অপটিমাইজ করবেন

 

কিওয়ার্ড অপটিমাইজেশন এর ক্ষেত্রে যেটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে তা হলো আপনার প্রধান কিওয়ার্ডগুলো ১০০ বা ১৫০ শব্দের মধ্যে রাখতে হবে। আপনার কনটেন্ট এর অথবা আর্টিকেলের প্রথম ১০০  অথবা ১৫০ ওয়ার্ড হতে হবে আপনার প্রধান কিওয়ার্ড দিয়ে সাজানো।

বিষয়টি আরও সহজভাবে বলতে গেলে যে টপিক নিয়ে আপনি কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লিখেছেন সেই টপিক অবশ্যই আপনার আর্টিকেল এর প্রথম দিকে উল্লেখ করতে। ধরুন আপনি গাড়ি নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখেছেন। সে ক্ষেত্রে গাড়ি নিয়ে লেখা আর্টিকেল টি যদি আর্টিকেলের শেষ অংশে অথবা মাঝখানের নিচের দিকের অংশে উল্লেখ করেন গাড়ির কথা তাহলে অবশ্যই আপনার অডিয়েন্স কিংবা গুগোল এটি বুঝতে পারবে না যে আপনার আর্টিকেল কি বিষয়ে লেখা। কিন্তু আপনি যদি গাড়ি শব্দটি প্রথম অংশে প্রথম প্যারাগ্রাফে অথবা প্রথম একশ থেকে দেড়শ শব্দের মধ্যে কয়েকবার ব্যবহার করেন তাহলে গুগোল খুব সহজে বুঝতে পারবে যে আপনার আর্টিকেলটি গাড়ি বিষয়ে লেখা। তাই যখনই কোন ব্যক্তি গুগলে গাড়ি সম্পর্কিত কিছু সার্চ করবে তখন আপনার আর্টিকেল এর সম্ভাবনা রয়েছে সেই সার্চ এর ভিত্তিতে রেংক করার।

আরো দেখুনঃ  অফ পেজ এসইও কি ? (Off Page SEO) কিভাবে করতে হয়?

কোন ইমেইল কাউকে পাঠানোর পূর্বে ইমেইলের বিষয় যেমন লিখতে হয় ইউ আর ঠিক তেমনি ভাবে কাজ করে। আপনি যে বিষয়ে আর্টিকেলটি লিখছেন সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীওয়ার্ডগুলি অবশ্যই আর্টিকেলের প্রথমে উল্লেখ করতে হবে এটি আপনার অনপেজ এসইও হিসেবে কাজ করে আপনার কনটেন্ট বা আর্টিকেলটি কে অপটিমাইজ করে রেঙ্ক করাতে সাহায্য করবে।

তাই কোনো আরটিকেল গুগলের রাঙ্ক করাতে চাইলে অবশ্যই কিওয়ার্ডের দিকে ফোকাস করতে হবে। একই বিষয়ে দুইটি আর্টিকেল যদি লেখা থাকে এবং প্রথমটিতে যদি পাঁচটি ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয় আর পরেরটিতে যদি দশটি কি ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয় তাহলে অবশ্যই যে আর্টিকেলে দশটি কিওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছে সে আর্টিকেলটি গুগল সার্চে প্রথমে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় যে আর্টিকেলে বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার করা হয় গুগোল সে আর্টিকেল সম্পর্কে বেশি বিশ্বাসী থাকে।

ইউ আর এল (URL) ছোট করা

কনটেন্টের ইউআরএল অবশ্যই ছোট রাখতে হবে। ইউ আর এল এর মধ্যেও আপনি কি ওয়ার্ড স্থাপন করতে পারেন সেক্ষেত্রে আপনার রাঙ্ক করার চান্স আরো বেশি হবে।
ধরুন আপনি “২০২২ সালের সেরা ওয়ারলেস মাউস কোনগুলো” এই বিষয়ে একটি আর্টিকেল লিখেছেন। এখন ইউ আর এল ব্যবহার করার সময় অবশ্যই আপনার ইউ আর এল এ ” মাউস” কথাটি উল্লেখ থাকতে হবে ।

আরো দেখুনঃ  ডিজিটাল মার্কেটিং কি ?

এক্সটার্নাল লিংক যুক্ত করা (External Link)

এক্সটার্নাল লিনক যুক্ত করে আপনার পোষ্টকে আরো অপটিমাইজ করা যায়। যাদের পোস্টে এক্সটার্নাল লিনক যুক্ত থাকে এবং যাদের পোস্টে এক্সটার্নাল লিনক থাকেনা এসকল পেজের মধ্যে যাদের পোস্টে এক্সটার্নাল লিংক থাকে অর্থাৎ একটি পোষ্টের সাথে আরেকটি পোষ্ট যুক্ত করে দেওয়া হয় তাদের গুগলে রেঙ্ক করার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
আপনার পেইজে যে ওয়ার্ড আপনার অন্য একটি ব্লগ পোস্টের সাথে সম্পর্কিত সেই ওয়ার্ডটি তে আপনি এক্সটার্নাল লিনক ব্যবহার করতে পারেন । এক্সটার্নাল লিনক এ ক্লিক করলেই ব্যবহারকারী লিংকে প্রদানকৃত পোস্টে প্রবেশ করবে এবং এটি আপনার পেজভিউ আরো বাড়িয়ে দিবে। তাছাড়াও আপনার ওয়েবসাইট আরো বেশি অপটিমাইজ হবে কারণ গুগোল মনে করে এটি একটি হাব তৈরি করে যা ব্যবহারকারীকে আরো বেশি তথ্য প্রদান করতে সাহায্য করে। তাই আপনার পোস্ট কে গুগলের অ্যাড করতে চাইলে এক্সটার্নাল লিনক ব্যবহার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button