প্রযুক্তি

লিনাক্স কি? লিনাক্স কিভাবে কাজ করে এবং সুবিধা কি কি

লিনাক্স একটি অপারেটিং সিস্টেম যা একটি ওপেন সোর্স লাইসেন্স হিসেবে ডিস্ট্রিবিউট করা হয়ে থাকে। লিনাক্স এর নাম কম বেশি সবাই শুনেছি। অনেকেরই আগ্রহ থাকে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করার । লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। যারা প্রোগ্রামিং কিংবা গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ করেন তারা অনেকেই লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের। ১৯৯০ সালের ফিনল্যান্ড এর লিনাস টোরভাল্ডস এর তৈরি কার্নেল অনুযায়ী লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম চলে। লিনাক্স এরটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম কিন্তু ফ্রি হলেও এটি আপনাকে আপনার অপারেটিং সিস্টেম কাস্টমাইজেশনের আরো বেশি সুযোগ প্রদান করে।

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম এর ব্যবহার

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম সকলে ব্যবহার করে না । লিনাক্স যেযেতু তাদের ব্যবহারকারীকে অনেক বেশি ডিভাইস এর ওপর কন্ট্রল প্রদান করে সে কারনে লিনাক্স অনেকের কাছে কিছুটা অগোছালো মনে হতে পারে। লিনাক্স সকলে ব্যবহার করে না এর আরেকটি কারন হলো লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট করা কিছুটা কঠিন। তবে যারা একবার লিনাক্সে অভ্যস্ত হয়ে যায় তারা লিনাক্স ব্যবহারে অনেক ফ্লেক্সিবল হয়ে যায়। 

লিনাক্স যেহেতু একটি অপারেটিং সিস্টেম তাই লিনাক্স সম্পর্কে জানার আগে জানতে হবে অপারেটিং সিস্টেম কি? অনেকেই জানেন অপারেটিং সিস্টেম কি তবে যারা জানেন না তারা হয়তো অপারেটিং সিস্টেম ইতিমধ্যে ব্যবহার করেছেন । বর্তমানে বহুল প্রচলিত একটি কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম হল উইন্ডোজ। তাহলে অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে? অপারেটিং সিস্টেম আপনার ডিভাইসের ডকুমেন্ট তৈরি, ভিডিও প্লে কিংবা গেম খেলা অর্থাৎ আপনার ডিভাইসের সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রন করে। একটি সফটওয়্যার রান করাতে হলে প্রয়োজন হয় অপারেটিং সিস্টেমের। যারা বাসায় ব্যবহার করেন কিংবা পার্সোনাল ব্যবহারের জন্য অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন তাদের বেশিরভাগই ব্যবহার করে উইন্ডোজ। সারাবিশ্বে উইন্ডোজ এর চাহিদা অনেক বেশি এবং উইন্ডোজ ব্যবহারকারী অনেক বেশি। তবে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। অনেক বেশি কাস্টমাইজেশন সুবিধা দেয় বলে লিনাক্স ব্যবহারকারী অনেক বেশি বাড়ছে। লিনাক্স এর অসুবিধা বলতে কিছুটা ম্যানেজমেন্ট করা কঠিন। তবে যারা লিনাক্স ব্যবহার করেন তারা বেশিরভাগই যেহেতু প্রোগ্রামিং কিংবা সফটওয়্যার এর সাথে জড়িত তাই তারা খুব ভালোভাবে লিনাক্স ম্যানেজ করতে পারে।

লিনাক্স কি?

লিনাক্স সম্পূর্ণ ফ্রি একটি অপারেটিং সিস্টেম বা কার্নেল। এটি ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় এটি কন্ট্রোল এর ক্ষেত্রে। তাই যারা নিজেদের মতন করে একটু অপারেটিং সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাদের অবশ্যই প্রথম পছন্দ লিনাক্স। বর্তমানে সুপারকম্পিউটার গুলোতে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।

 what-is-linux-picture

 

লিনাক্স একটি অপারেটিং সিস্টেম যা অনেক কম্পিউটার এবং সার্ভারে ব্যবহৃত হয়। এটি ওপেন সোর্স, যার মানে যে কেউ এটি করতে চায় তার দ্বারা এটি পরিবর্তন এবং উন্নত করা যেতে পারে।

লিনাক্স হল মাইক্রোসফট উইন্ডোজ বা ম্যাক ওএস এর মতো একটি কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম। এতে ডেস্কটপ বা স্ক্রিনে আইকনের মতো কোনো বিশেষ গ্রাফিকাল ইন্টারফেস নেই, তবে এটির একটি কমান্ড লাইন ইন্টারফেস রয়েছে। লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনগুলি বেশিরভাগ হার্ডওয়্যার আর্কিটেকচারের জন্য উপলব্ধ এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায়, যদিও কিছু হার্ডওয়্যার নির্মাতারা ইনস্টলেশন মিডিয়ার জন্য আপনাকে চার্জ করতে পারে।

অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় লিনাক্সের কিছু সুবিধা রয়েছে:

  • এটি বিভিন্ন প্রয়োজনের সাথে মানানসই করে কাস্টমাইজ করা যায়
  • এটি প্রায় যেকোনো কম্পিউটারে ইন্সটল করা যায়
  • এটা বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়
  • এর কোনো বড় নিরাপত্তা ত্রুটি নেই

কেন লিনাক্স অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের চেয়ে ভালো?

লিনাক্স হল একটি ইউনিক্স-এর মতো কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম যা ফ্রি এবং ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং ডিস্ট্রিবিউশনের মডেলের অধীনে একত্রিত হয়। লিনাক্স হল বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত ফ্রি এবং ওপেন-সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যা সমস্ত সার্ভারের 50%-এরও বেশিতে চলে এবং অনেক ব্যবসার জন্য অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Linux 1991 সালে Linus Torvalds দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, প্রাথমিকভাবে একটি শখের প্রকল্প হিসাবে। এটি তখন থেকে ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ডেটা সেন্টার এবং মোবাইল ফোনের মতো এমবেডেড ডিভাইসে সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম হয়ে উঠেছে। লিনাক্স কার্নেল মাইক্রোকন্ট্রোলার থেকে সুপার কম্পিউটার পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার আর্কিটেকচারে চলে যখন এর ইউজার ইন্টারফেসটি স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজ করা যায়।

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম এর সুবিধা

সিকিউরিটি

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের একটি প্রধান সুবিধা হলো এর সিকিউরিটি। যেহেতু অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমগুলোর মত লিনাক্স ব্যবহারকারীর সুবিধার চেয়ে তার সিকিউরিটি নিয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় এ কারণে লিনাক্স এর সিকিউরিটি অপারেটিং সিস্টেমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। উইন্ডোজ এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে কারণ উইন্ডোজ অনেক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীকে ব্যবহারের সুযোগ দেয় যেগুলো ব্যবহারকারীর জন্য অনেক সময় ক্ষতি ডেকে আনে। আর এ কারণেই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে কিংবা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে এন্টিভাইরাসের প্রয়োজন হলেও লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম এর প্রয়োজন হয় না কোন এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম এর।

সম্পূর্ণ ফ্রি

বাজারে যে সকল অপারেটিং সিস্টেমগুলো রয়েছে তা বিভিন্ন রকম মূল্যে বিক্রি হয়ে। কিন্তু লিনাক্স উইন্ডোজ কিংবা ম্যাক এর অনেক বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও এটি সম্পূর্ণ ফ্রি। ব্যবহারকারীরা লিনাক্স সম্পূর্ণ ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারেন এছাড়াও লিনাক্স ব্যবহারের এক্সট্রা সফটওয়্যার গুলো প্রয়োজন হয় সেগুলো ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারেন।

স্টেবিলিটি

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্টেবল। তাহলে স্টাবিলিটি কি? যারা উইন্ডোজ ব্যবহার করেন তারা অনেকেই খেয়াল করেন উইন্ডোজ দেওয়ার কিছুদিন পরে অথবা কয়েক মাস পরে উইন্ডোজ এর পারফর্মেন্স কিছুটা ড্রপ করে । অর্থাৎ পারফরম্যান্স কমে যায়। এদিক দিয়ে লিনাক্স সম্পূর্ণ আলাদা। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার পারফরম্যান্স শুরুতে যা থাকে অনেকদিন ব্যবহারের পরেও একই থাকে। এ কারণে কিছুদিন পরপর অপারেটিং সিস্টেম আপডেট দিতে হয় না কিংবা রিবুট করতে হয় না।

সফটওয়্যার আপডেটস

পরিচিত যে সকল অপারেটিং সিস্টেমগুলো রয়েছে তার বেশির ভাগেই সফটওয়্যার আপডেট আছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এর নির্দেশ অনুযায়ী। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যে সকল মডেলের জন্য কিংবা যে সকল অপারেটিং সিস্টেমের ভার্সনের জন্য আপডেট নিয়ে আসে ব্যবহারকারীকে সে আপডেট দিতে হয়। অনেক সময় ব্যবহারকারী প্রয়োজন নয় এমন কিছু আপডেট দিয়ে থাকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। লিনাক্স এর সফটওয়্যার আপডেট সিস্টেম অনেক বেশী গোছানো। ব্যবহারকারী তার ইচ্ছামত আপডেট করতে পারে অর্থাৎ আপডেট এর বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় নতুন ভার্সন এর অপারেটিং সিস্টেম এ বিভিন্ন ধরনের বাগ বা ইসু থাকে। এ দিক থেকেও লিনাক্স অনেক বেশি ফাস্ট। লিনাক্স ব্যবহার একটি সিস্টেম আপডেটের পর কোন ধরনের বাগ বা  ইস্যু দেখা যায় না।

নেটওয়ার্কিং

লিনাক্সের সিস্টেমের সাথে ব্যবহারকারীর সার্ভারে সিস্টেম খুব সহজেই এটাস্ট হয়ে যায় যার ফলে ব্যবহারকারীর নেটওয়ার্ক অনেক বেশি স্ট্যাবল এবং ফার্স্ট হয়। নেটওয়ার্ক এর বিভিন্ন টাস্ক গুলো অনেক বেশি ফাস্ট।

মাল্টিটাস্কিং

মাল্টিটাস্কিং এর সাথে জড়িত আছেন তারা প্রায় সবাই একসাথে অনেকগুলো কাজ করতে গেলে অনেক সময় অপারেটিং সিস্টেম ক্র্যাশ করতে পারে কিংবা কিছুটা স্পিড কমে যায়। লিনাক্স ব্যবহার করে মাল্টিটাস্কিং এর ক্ষেত্রে আপনার সিস্টেমের স্পিড কখনো কমেনা এবং আপনি খুবই স্মার্ট ভাবে মাল্টিটাস্কিং করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button