প্রযুক্তি

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি? ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ কেন – জেনে নিন

ক্রিপ্টোকারেন্সি বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় সকল দেশেই ইলিগাল। ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বৈধতা নেই কোন দেশে তার পরেও ক্রিপ্টোকারেন্সি এর জনপ্রিয়তা কমছে না বরং ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে। এনসিডি জনপ্রিয়তা বাড়ার কারণ কি? কারেন্সি এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলো বিটকয়েন। বিটকয়েন এর দাম এখন আকাশচুম্বী। এছাড়াও আরো কয়েক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বর্তমানে বাজারে রয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি জনপ্রিয়তার কারণ হলো বর্তমানে কিছু নামিদামি কোম্পানির ক্রিপ্টোকারেন্সি তে তাদের পেমেন্ট নেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে ক্রিপ্টোকারেন্সি এর কোন ভৌত অস্থিত্ব নেই। ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পূর্ণ একটি ডিজিটাল মুদ্রা যা দেখতে বা স্পর্শ করতে পারা যায় না । ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশ্বের কোন দেশের সরকারি বৈধতা দেয় না।

বৈধতা না পাওয়া সত্ত্বেও ক্রিপ্টোকারেন্সি এতটা জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণ কি? ক্রিপ্টোকারেন্সি এতটা জনপ্রিয়তার মধ্যে কয়েকটি বিষয় রয়েছে সেগুলো হলো

ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া যায়

ক্রিপ্টোকারেন্সি হস্তান্তরযোগ্য। কোন দেশের সরকারি এটিকে বৈধতা দেয় না তারপরও এখন কিছু বড় বড় কোম্পানি ক্রিপ্টোকারেন্সি তে তাদের পেমেন্ট গ্রহন করছেন যেখানে যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ নয় তাই সে দেশের সরকারকে কোন প্রকার টেক্স না দিয়েই পেমেন্ট দেওয়া যায়। ক্রিপ্টোকারেন্সির বর্তমানে নিরাপত্তা অনেক বেশি। ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা অনেক কম। ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে প্রেমেন্ট দিলে যেহেতু ট্যাক্স লাগে না তাই যেকোনো পণ্যের মূল্য অনেক কমে যায়। কোন ব্যক্তি যদি কম মূল্যে একটি পণ্যের বিল পরিশোধ করতে পারেন তবে সে কেন সেই কারেন্সি ব্যবহার করবে না। আর এই কারনেই ক্রিপ্টোকারেন্সি চাহিদা এবং জনপ্রিয়তা এত বেশি। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি এর ব্যবহার ১২ বছরে প্রায় আকাশচুম্বী হয়েছে এবং যারা ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রেতাদের শেয়ার কিনে ছিলেন তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে গেছে।

আরো দেখুনঃ  বিটকয়েন কি? বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে?

ব্ল্যাক মার্কেটে সুবিধা

ক্রিপ্টোকারেন্সি মূলত ব্ল্যাক মার্কেট এর জন্য একেবারে উপযুক্ত একটি মুদ্রা ব্যবস্থা। অর্থাৎ ব্ল্যাক মার্কেট যেমন অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ এর ফলে যারা ব্ল্যাকমানি তাদের লেনদেন করেন তাদের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি পারফেক্ট সমাধান। ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও কালোবাজারি লেনদেনের জন্য একটি নিখুঁত উপায়। যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারকারীরা বেনামী থাকে অর্থাৎ তাদের কোনো পরিচয় প্রকাশ করা হয় না এবং তাদের পুলিশ কিংবা সরকার ট্র্যাক করতে পারে না তার ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সি তে লেনদেন করা তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।বিশেষ করে যারা মাদক দ্রব্য কিংবা বিভিন্ন অবৈধ পণ্য কেনা-বেচা করে তাদের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি খুবই ভাল একটি লেনদেন ব্যবস্থা। আবার ক্রিপ্টোকারেন্সি পে ব্যবহারকারী সব সময় তাদের পরিচয় পরিবর্তন করতে পারে প্রতিবার লেনদেন করার সময় তাদের ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারে ফলে সরকার তাদেরকে ট্র্যাক করার ক্ষেত্রে বিফল হয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কোন কোন দেশে বৈধ

ক্রিপ্টোকারেন্সি কে প্রথম বৈধতা প্রদান করে এল সালভাদর। 2021 সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এল সালভাদর ছাড়া অন্য কোন দেশ ক্রিপ্টোকারেন্সি কে সম্পূর্ণরূপে বৈধতা প্রদান করেন।
ক্রিপ্টোকারেন্সি এত অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও যেহেতু জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে এবং বর্তমানে অনেক বড় বড় কোম্পানি ক্রিপ্টোকারেন্সি তে তাদের পেমেন্ট গ্রহন করছে তাই বর্তমানে বিশ্বের অনেক বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি কে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ দেশগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড স্টেটস, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো বড়-বড় দেশ রয়েছে। এছাড়াও ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, আইসল্যান্ড, স্পেইন, ব্রিটেন, মেক্সিকো ও জাপানে বিটকয়েন এর মত ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ।

যে সকল দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ

ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই অবৈধ। বিশেষ করে যেসব দেশ অনুন্নত কিংবা উন্নয়নশীল সেসব দেশগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের 42 টি দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে । এরমধ্যে জিম্বাবুয়ে, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, মাকাও, লিবিয়া, লেসোথো, কুয়েত, জর্জিয়া, ক্যামেরুন, বাহরাইন এর মতো দেশগুলো রয়েছে।

এছাড়াও সম্পূর্ণরূপে ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ এমন দেশগুলো হলো আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, তিউনিসিয়া, কাতার, নেপাল, মরক্কো, চায়না, মিশর। এই দেশগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রকারভেদ

ক্রিপ্টোকারেন্সি কয়েক রকমের হয়ে থাকে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হলো বিটকয়েন। ক্রিপ্টোকারেন্সি গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান বিটকয়েন । 2008 সালে আবিষ্কারের পর বর্তমানে বাজারে হাজার হাজার বিটকয়েন রয়েছে। এছাড়াও এখন দজ কয়েন, লিট কয়েন, ইথেরিয়াম, ইউএসডিটি এর মত ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে। মজার ব্যাপার হল সবগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং স্পেসিফিকেশন আলাদা। বর্তমানে বিটকয়েনের সাফল্যের পর আল্টকয়েন নামে আরও একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করা হয়েছে।

  • বিটকয়েন
  • লিটকয়েন
  • ইথেরিয়াম
  • ইওএস
  • কারডানো
  • ডজকয়েন
  • ইউএসডিটি

ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে ধীরে ধীরে মানুষের আগ্রহ বেড়ে চলেছে । বিট কয়েনের মতো অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ধীরে ধীরে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করছে। অনেকেই এমন টা মনে করে না আগামীতে লেনদেন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ক্রিপ্টোকারেন্সি নির্ভর হতে পারে। তবে এমন আশঙ্কাও রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি তে যারা অনেক বেশি বিনিয়োগ করেছেন তারা রাতারাতি যেমন ধনী হয়ে গেছেন ক্রিপ্টোকারেন্সি দরপতন হলে রাতারাতি আবার পথে বসতে পারেন। এখন দেখার বিষয় বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি কে বৈধতা প্রদান করে কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button