প্রযুক্তি

বিটকয়েন কি? বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে?

বিটকয়েন হলো ডিজিটাল মুদ্রা। অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রার মতই বিটকয়েন দেখা যায় না অথবা স্পর্শ করা যায় না। বিশ্বে ক্রমাগত বিটকয়েন এ ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। বিটকয়েন তৈরি হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে এবং এটির মূল্য ক্রমাগত উঠানামা করতে থাকে। বিটকয়েন কে বা কারা তৈরি করেছে সেটি এখনও একটি রহস্য। সরকার যারা জারিকৃত মুদ্রার বিপরীতে বিটকয়েন পরিচালিত হয় ডিসেন্ত্রালাইজড অথরিটি এর মাধ্যমে। বিটকয়েন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি। বিটকয়েন কে ক্রিপ্টোকারেন্সি বলার কারণ বিটকয়েন সুরক্ষিত রাখতে ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়। বিশ্বে কোন ফিজিক্যাল বা ভৌত বিটকয়েন নেই। যে বিটকয়েন আছে তার সবগুলোই লেজারে রাখা এবং লেনদেন এর রেকর্ড থাকে সম্পূর্ণ এনক্রিপটেড।

বিটকয়েনের লেনদেন কিভাবে হয়?

বিটকয়েনের লেনদেন হয় বৃহৎ কমপিউটিং পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এ প্রক্রিয়াকে বলে মাইনিং। বিটকয়েন এর ব্যবহার সরকার বা কোন ব্যাংক দ্বারা সমর্থন করে না। কিন্তু বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই বৈধ না হওয়া সত্ত্বেও বিটকয়েন তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বর্তমানে বিটকয়েন এর ব্যবহার রয়েছে বড় বড় সকল লেনদেনে।

বিটকয়েন আবিষ্কার কিভাবে হয়?

বিটকয়েন এর আবিষ্কার সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। ২০০৯  সালে সাতোশি নাকামোটো বিটকয়েন আবিষ্কার করেছিলো। বিটকয়েন একটি ডিসেন্ত্রালাইজড বা বিকেন্দ্রীভূত মুদ্রা যার কারণে এটি নিয়ন্ত্রণে কোন ব্যাংক অথবা সরকার নেই। আবার বিটকয়েনের কোন মালিক নেই। বিটকয়েন এর ব্যবহারকারী রয়েছে কিন্তু কোন একক মালিক নেই। এমনকি যে বিটকয়েন আবিষ্কার করেছিল সেও। বিটকয়েন এর মালিক নয়। লেনদেনের সময় বিটকয়েন কি বিটিসি বলা হয়।

আরো দেখুনঃ  ক্রিপ্টোকারেন্সি কি? ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ কেন - জেনে নিন

বিটকয়েন হলো কম্পিউটার একটি সংগ্রহ। এই সিস্টেমে রয়েছে নোডস এবং মাইনারস যা ব্লকচেইনে সংরক্ষিত থাকে। কল্পিত ভাবে বলতে গেলে বিটকয়েন হলো ব্লক এর একটি সংগ্রহ। প্রতিটি ব্লকে লেনদেনের কালেকশন রয়েছে। প্রতিটি কম্পিউটার একটি তালিকা ব্লক এ প্রবেশ করতে পারে এবং একটি স্বচ্ছ থাকে। বিটকয়েনের সিস্টেমকে কেউ ধোকা দিতে পারেনা।
বিটকয়েন এর নোড ক্রমশই বড় হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৪,০০০ এর মত নোড রয়েছে। বিটকয়েন এর দোকান গুলোকে পাবলিক বা প্রাইভেট ” keys” দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। পাবলিক (keys) গুলোকে ব্যাংক একাউন্টের সাথে তুলনা করা যেতে পারে । বিটকয়েন লেনদেনের ক্ষেত্রে পাবলিক (Keys) এর ব্যবহার রয়েছে। আবার প্রাইভেট (key) হল একটি গোপন নাম্বার। আমরা এটিএম পিন বা পাসওয়ার্ড যেভাবে ব্যবহার করি এই প্রাইভেট (key) এমন একটি নাম্বার।

বিটকয়েন এর ব্যবহার

বিটকয়েনের ব্যবহার মূলত অনলাইন পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অনলাইন ডেভলপার, বিভিন্ন কোম্পানি বিটকয়েনে তাদের পেমেন্ট গ্রহন করে। বিটকয়েন সারা বিশ্বেই অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয় তবে এটি বৈধ নয়। বিটকয়েন ব্যবহার করে যে সকল লেনদেন সম্পন্ন করা হয় তার সবগুলোর রেকর্ড  থেকে যায় ।

আরো দেখুনঃ  ক্রিপ্টোকারেন্সি কি? ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ কেন - জেনে নিন

বিটকয়েন ওয়ালেট কি

বিটকয়েন ওয়ালেট বিটকয়েন গ্রহণ করতে ব্যবহৃত একটি ওয়ালেট। তবে এটি কোন ভৌত ওয়ালেট নয় বরং এটি একটি ডিজিটাল ওয়ালেট যা বিটকয়েন পাঠাতে সাহায্য করে এবং গ্রহণ করতে সাহায্য করে। নিত্যদিনে আমরা যে সকল মানিব্যাগ ওয়ালেট ব্যবহার করে থাকি তেমনই এক ধরনের ওয়ালেট হলো বিটকয়েন ওয়ালেট। তবে আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহৃত মানিব্যাগটি দৃশ্যমান যাতে আমরা টাকা রাখি কিন্তু বিটকয়েন ওয়ালেট কোন দৃশ্যমান ওয়ালেট নয় । বিটকয়েন ওয়ালেট গুলো খুবই নিরাপদ এবং যে কোন ভাইরাস প্রতিরোধে। বিটকয়েন থেকে কারেন্সি চুরি চুরি হওয়ার রেকর্ড নেই বললেই চলে। লেজার এবং ট্রেজার এই দুইটি খুবই সুপরিচিত বিটকয়েন ওয়ালেট ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি। বিটকয়েন ওয়ালেট গুলোর দাম ১০০ থেকে ২০০ ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে।

বিটকয়েন মাইনিং কি

বিটকয়েন মাইনিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বিটকয়েন সার্কুলেশন এর মধ্যে প্রবেশ করে। বিটকয়েন মাইনিং খুবই সমৃদ্ধ ব্যয়বহুল। বিটকয়েন মাইনিং এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর শ্রম। আবার বিটকয়েন মাইনিং এর জন্য শুধুমাত্র শ্রম নয় প্রয়োজন অনেক বেশি দক্ষতা। বিটকয়েন মাইনিং করে তারা একটি পুরস্কার পায় যা অন্যান্যদের উৎসাহিত করে বিটকয়েন এর প্রাথমিক বিনিয়োগের জন্য।

আরো দেখুনঃ  ক্রিপ্টোকারেন্সি কি? ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ কেন - জেনে নিন

বিটকয়েন ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা

বিটকয়েন ব্যবহারের অনেক সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। যেহেতু বিটকয়েন বৈধ নয় এটি সবচেয়ে বড় অসুবিধা কিন্তু এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিটকয়েন এর জনপ্রিয়তার পেছনে নিশ্চয়ই কিছু সুবিধা রয়েছে যার কারণে বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন বিটকয়েন তাদের পেমেন্ট গ্রহন করে।

বিটকয়েন ব্যবহারের সুবিধা

বিটকয়েন ব্যবহারে লেনদেন ফি সাধারণ ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের চেয়ে অনেক কম।

যেহেতু বিটকয়েন যারা ব্যবহার করে তারা বৈধ উপায়ে এটি ব্যবহার করে না তাই যারা ভুল কাজে বিটকয়েন ব্যবহার করে তাদের জন্য এটি অনেক সুবিধা দেয়।

বিশ্বের যে কোন জায়গায় কোন অসুবিধা ছাড়াই বিটকয়েন ব্যবহার করা যায় বা বিটকয়েনের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়।

বিটকয়েনের অসুবিধা

বিট কয়েনের মূল্য অনেক উঠানামা করে তাই এটি ব্যবহার অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ।
কিন্তু এর কোনো মালিক কর্তৃপক্ষ বা সরকার নেই তাই এটির জন্য কেউ দায়ী থাকে না

অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে সে টাকা আর ফেরত আনা যায় না। তবে বিটকয়েন এর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া খুব বিরল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button