লাইফস্টাইল

ব্রণ থেকে মুক্তির উপায় -জেনে নিন

ব্রণ একটি সাধারণ অথচ দীর্ঘমেয়াদী ত্বকের সমস্যা। আমাদের বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের কিশোর-কিশোরীদের একটি বড় সমস্যা ব্রণের সমস্যা। ব্রণের সমস্যা মূলত বয়সন্ধিকালে বেশি দেখা যায়। সাধারণত ১১ থেকে ২৩ বছর বয়সীদের ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা যায়, তবে প্রাপ্ত বয়স্কদেরও ব্রণের সমস্যা হতে পারে। ব্রনের সমস্যার কারণে কিশোর-কিশোরীরা মানসিক ভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে যায়। কারণ ব্রণের সমস্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুখে দেখা দেয় আর এটা ত্বক নষ্ট করে দেয়।

ব্রণের কারণ

বিশেষজ্ঞরা ব্রণের অনেকগুলো কারণের কথা বলে থাকেন। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রধান কারণ হলো হরমোন ক্ষরণের তারতম্য বা অভাব, জীবানু সংক্রমণ, ত্বকের অযত্ন, তৈলাক্ত খাবার, অতিরিক্ত  দুশ্চিন্তা, ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব, কসমেটিকস এর ব্যবহার ইত্যাদি। পরিষ্কার পরিছন্নতা ও সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন প্রতিরোধের উপায়।

ব্রণ হলে করণীয়
১. চিকিৎসকের পরামর্শে সাবান ও ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া
২. ব্রণে হাতের নখ না লাগানো
৩. মুখে মেকআপ ব্যবহারে সতর্ক হওয়া বিশেষ করে তেল ছাড়া বা ওয়াটার বেস্ট মেকআপ ব্যবহার করা
৪. নমিত প্রচুর পানি ফল ও শাকসবজি খাওয়া
৫. মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা পরিহার করা
৬. রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করা

ব্রণ প্রতিরোধের ঘরোয়া উপায়

  • প্রতিদিন রাতে চিরতা ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেই পানি পান করলে ব্রণের সমস্যা অনেক কম হয়
  • এক চামচ অ্যালোভেরা/ঘৃতকুমারীর সাথে চার-পাঁচটা করে তুলসী ও নিমপাতা একসঙ্গে পেস্ট করে খেলে দ্রুত ব্রণ কমে যায়।
    মাসে একবার দুইবার বিউটি সেলুনে গিয়ে মুখে ফেসিয়াল করে নিলে মুখ পরিষ্কার থাকে  ও ব্রণ কম হয়।
  • ব্রণের পরিমাণ খুব বেশি হলে পাতি লেবুর রস দিয়ে দু’তিনবার বর্ণের জায়গাগুলোতে লাগাতে হবে। তবে একটানা ১০ মিনিটের বেশি রাখা যাবে না।  ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • ব্রণ সারাতে নিমপাতা খুবই উপকারী। কারণ নিমপাতা ভালো জীবানুনাশক। নিমপাতা বেটে সঙ্গে চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরী করে এই মিশ্রন ত্বকে লাগাতে হবে, ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে মুখ পরিষ্কার হয়ে যাবে ও ব্রণ কম হবে।
  • কাঁচা কদবেলের রস তুলাতে ভিজিয়ে ব্রণ আক্রান্ত জায়গাগুলোতে লাগাতে হবে। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ব্রণ কমে যাবে
  • পুদিনা পাতা ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব ও ব্রণের সংক্রমণ কমাতে খুবই উপকারী। টাটকা পুদিনা পাতা বেটে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর হয়ে যাবে। অতিরিক্ত গরমের কারণে ত্বকে যেসব ফুসকুড়ি ও ব্রণ হয় সেগুলো দূর করতেও পুদিনা পাতা খুবই উপকারী।
  • একটা পাকা পেঁপে চটকে এর সাথে এক চামচ পাতিলেবুর রস ও প্রয়োজনমতো চালের গুঁড়ো মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে মিশ্রণটি মুখসহ অন্যান্য ত্বকে লাগাতে হবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • পুদিনা পাতার রস করে সেটা দিয়ে আইস কিউব তৈরি করে সংরক্ষণ করতে হবে । মাঝে মাঝে ফুসকুড়ি ও ব্রণে আইস কিউব ১০থেকে ১৫ মিনিট ঘষতে হবে। এতে ব্রণের সংক্রমণ কমে যাবে  ও ত্বকের জ্বালা পোড়া ভাব দূর হবে।
  • লবঙ্গ আমাদের নিকট মসলা হিসেবে পরিচিত হলেও ব্রণ সারাতে এটি একটি কার্যকরী উপাদান। লবঙ্গ তেল দিয়ে ত্বক মেসেজ করা খুবই উপকারী। ত্বকে ব্রণের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে লবঙ্গ  গুঁড়া করে তার সাথে গোলাপজল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরী করতে হবে, মিশ্রণটি ব্রণের জায়গাতে মোটা করে প্রলেপ দিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • ব্রণ সারাতে ধনেপাতাও খুবই কার্যকরী। ধনে পাতা বেটে তাতে কয়েকটি চিমটি হলুদ গুঁড়া মেশাতে হবে, মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে এতে ব্রণের দাগ কমে যাবে।
  • নিয়মিত গোলাপ জল ব্যবহার করলেও ব্রণের দাগ কমে যায় ও ত্বক উজ্জ্বল হয় । দারুচিনি গুঁড়ার সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরী করতে হবে, এই মিশ্রন ব্রনের উপরে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে, এতে ব্রণের সংক্রমণ, চুলকানি, ব্যথা ও দাগ অনেকটাই কমে যাবে।
  • ১ লিটার পানিতে আড়াইশো গ্রাম নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে জ্বাল দিতে হবে ।পানির পরিমাণ অর্ধেক  হয়ে গেলে এ পানি নামিয়ে ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে  এই পানি পান করলে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে।
  • সরিষা মুখের ব্রণ সারাতে দারুণ কাজ করে। সরিষাতে স্যালিসাইলিক এসিড রয়েছে যা সংক্রমণ কে ধ্বংস করে দেয়। এক টেবিল চামচ এর এক চতুর্থাংশ সরিষা গুঁড়া নিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এই মিশ্রণটি মুখে ভালভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button