লাইফস্টাইল

তারাবির নামাজের সঠিক নিয়ম – জেনে নিন

রমজান মাস মুসলিম জাহানের আনন্দের মাস। মুসলমানরা সারা বৎসর এই মাসের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। রমজান মাস রহমতের মাস, বরকতের মাস ও নাজাতের মাস। এই মাসে রোজা রাখার পাশাপাশি মুসল্লিগণ তারাবির নামাজ আদায় করে থাকেন। তারাবির নামাজ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই  সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। রমজান মাসের নির্দিষ্ট নামাজ হচ্ছে তারাবির নামাজ বা সালাতুত তারাবিহ। রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে তারাবির নামাজ। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম নিজে তারাবির নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে তারাবির নামাজ পড়ার আদেশ দিয়েছেন। তারাবীহ নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়া বেশি সওয়াবের। রমজান মাসে তারাবির নামাজের মাধ্যমে কোরআন  খতম করা হয়।

তারাবির নামাজ কি?

পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে সেই রাত্রিতেই এশারের নামাজের পর ও বিতরের নামাজের আগে, দুই রাকাত দুই রাকাত করে সালাত আদায়  করা হল ‘তারাবির নামাজ’।  আরবি “তারাবিহ” শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। শরীয়তের পরিভাষায়, মাহে রমজানে তারাবির নামাজ পড়াকালীন প্রতি দুই রাকাত শেষ করে চার রাকাতের বেলায় একটু বসা বা বিশ্রাম নেওয়ার নামই হলো ‘তারাবি’।

তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম

পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে সেই রাত্রিতেই এশারের নামাজের পর ও বিতরের নামাজের আগে, দুই রাকাত দুই রাকাত করে সালাত আদায়  করা হল ‘তারাবির নামাজ’। তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম আমরা এখানে আলোচনা করব:- 

 

  • তারাবীহর নামায রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু
  • এশার নামাজ শেষ করতে হবে তবে বিতরের নামাজ বাদ রাখতে হবে
  • মনে মনে দুই রাকাত তারাবির নামাজের নিয়ত করে নামাজ শুরু করতে হবে
  • দুই রাকাত নামাজ শেষ হলে সালাম ফিরিয়ে আবার দুই রাকাত নামাজের নিয়ত করতে হবে
  • চার রাকাত শেষ হলে একটু বিশ্রাম করতে হবে আর সেই সময়গুলোতে বিভিন্ন রকম দোয়া দুরুদ পাঠ করতে হবে তবে নির্দিষ্টভাবে কোন দোয়া পাঠ করা যাবে না
  • এভাবে ৮ রাকাত বা ২০ রাকাত যে মাযহাব যেভাবে পড়ে সেইভাবেই পড়বেন। তবে মনে রাখতে হবে যে চার রাকাত শেষে একটু বসা বা বিশ্রাম নেওয়া লাগবে এবং সেই সময়গুলোতে বিভিন্ন দোয়া পড়তে হবে।
  • তারাবীহর নামায খুব ধীরে ধীরে ও শান্ত ভাবে আদায় করা উত্তম। তারাবীহ নামাজে তাড়াহুড়া করা যাবে না।
  • তারাবির নামাজ শেষ হলে, তিন রাকাত বিতরের নামাজ পড়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

তারাবির নামাজের নিয়ত

নিয়ত ছাড়া কোন নামাজী হয় না। তাই তারাবির নামাজের নিয়ত করতে হবে। তবে কোন নামাজে মুখে জোরে উচ্চারণ করে নিয়ত করা যাবে না। মনে মনে নিয়ত করতে হবে যে ‘আমি দুই রাকাত তারাবির নামাজ পড়বো’

তারাবির নামাজের দোয়া

নিচের দোয়াটি তারাবির নামাজের চার রাকাত শেষে একটু বসা বা বিশ্রাম নেওয়া অবস্থায় পড়া উত্তম। তবে এই দোয়া পড়া নির্দিষ্ট করা যাবে না। আপনি কখনো এই দোয়া পড়বেন আবার কখনো অন্যান্য দোয়া পড়বেন। 

দোয়ার বাংলা উচ্চারণ নিচে দেওয়া হল

সুব্হানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুব্হানাযিল ইয্যাতি, ওয়াল আয্মাতি, ওয়াল হাইবাতি, ওয়াল কুদরাতি, ওয়াল কিবরিয়াই, ওয়াল যাবারুত। সুব্হানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা-ইয়াানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। সুব্বুহুন কুদ্দুছুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت . سبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح.

প্রত্যেক দুই রাকাআ’ত পর সালাম ফিরানোর পর ইসতেগফার পড়তে হয়, দুরুদ পড়তে হয়, আল্লাহর স্মরণে জিকির করতে হয়। তারপর চার রাকাআ’ত হলেও কুরআন হাদিসের দুআ’গুলো পড়া হয়; যে দুআ’গুলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পড়া হয়। কিন্তু তারাবির যে দুআ’টি বর্তমানে জারি আছে, এই দুআ’টি কোরআন-হাদিস সম্বলিত নয়; এটিও কোনো এক বুজুর্গ ব্যক্তি লিখে এর প্রচলন করেছেন, যার অর্থও ভালো বিধায় আমরা পড়ে থাকি।

তারাবির নামাজের মোনাজাত

তারাবির নামাজ শেষ করে শেষ বৈঠকে বিভিন্ন দোয়া পাঠ করা উত্তম। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের নিজের ভাষায়, অন্তর থেকে দোয়া করতে পারি এবং  কোরআন ও হাদিসের আলোকে আরবিতেও দোয়া করতে পারি। তবে যে দোয়া গুলো তে জান্নাত লাভ ও জাহান্নামের আগুন হইতে মুক্তির কথা আছে এই দোয়া গুলো বেশি বেশি করে পড়া উচিত।

তারাবির নামাজ কত রাকাত ?

তারাবির নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটা এক একটি মাযহাব এক একেক ভাবে আদায় করে থাকেন। কোন মাযহাব ৮ রাকাত পড়ে আবার কোন মাযহাব ২০ রাকাত পড়েন। তবে তারাবির নামাজের রাকাত সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কোন  সংখ্যা পাওয়া যায়নি। তাই এই নামাজ ৮ রাকাত, ১০ রাকাত, ১২ রাকাত, ১৬ রাকাত ও ২০ রাকাত পড়া যায়।

পুরুষদের জন্য তারাবির নামাজ মসজিদে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আদায় করা সুন্নত। তারাবির নামাজের মধ্য দিয়ে কোরআন শরীফ খতম করা সুন্নত। নারীদের জন্য তারাবির নামাজ ঘরে পড়া উত্তম। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button