লাইফস্টাইল

প্লাস্টিক সার্জারি কি? প্লাস্টিক সার্জারির ধরণ ও খরচ – জেনে নিন

প্লাস্টিক সার্জারি নাম শুনে প্লাস্টিক দিয়ে সার্জারি করা হয়েছে এমন বোঝালেও বিষয়টি আসলে এমন নয়। দেহের কোনো অংশের বা টিস্যু ক্ষতিগ্রস্থ হলে যে সারজারির মাধ্যমে তা পুনরায় ঠিক করা হয় তাকে প্লাস্টিক সার্জারি বলে। প্লাস্টিক শব্দের অর্থ হলো পরিবর্তন আনা। যেহেতু সারজারির মাধ্যমে দেহের ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গ পরিবর্তন করে ঠিক করা হয় তাই এর নাম প্লাস্টিক সার্জারি। অনেক সময় দুর্ঘটনার ফলে শরিরের কোনো অঙ্গ বিকৃত হয়ে যেতে পারে। এই বিকৃত অঙ্গ ঠিক করা যায় শুধুমাত্র প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে। যাদের জন্মগত ত্রুটি থাকে তাদের ত্রুটিও দূর করা সম্ভব প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে। চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে যার ফলশ্রুতিতে প্লাস্টিক সার্জারিরও অনেক ভিন্নতা এসেছে।

প্লাস্টিক সার্জারি কি?

প্লাস্টিক সার্জারি হলো এমন এক ধরনের সার্জারি যেখানে শরিরের কোনো বিকৃত অঙ্গ অন্য একটি অঙ্গ দিয়ে বা টিস্যু দিয়ে পুরন করা হয়। মজার ব্যাপার হলো এই সারজারিতে কোনো প্লাস্টিক ব্যাবহার করা হয় না । তাহলে প্লাস্টিক সার্জারি নাম হলোম কেন? এর কারন প্লাস্টিক মানে প্রস্তুত করা। শরিরের একটি ভালো টিস্যু দারা ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যুর ক্ষয়পুরন করা হয় ।  স্কিন গ্রাফটিং এর মাধ্যমে উচু হারের অংশের ত্বক অপসারন করা হয় এবং সুন্দর করা হয়। প্লাস্টিক সার্জারির অনেক রিস্ক রয়েছে। বর্তমানে প্লাস্টিক সার্জারির জন্য কোনো অস্ত্রপ্রচার করতে না হলেও রিস্ক ঠিক আগের মতোই আছে। যে সার্জারির মাধ্যমে মুখ বা ফিগার এর সৌন্দর্য বর্ধন করা হয় তাকে বলাহয় কসমেটিক সার্জারি।

প্লাস্টিক সার্জারির ইতিহাস

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মিশরে চালু হয় প্লাস্টিক সার্জারি। সে সময়ে যদিও এমন সার্জারি হতো না । প্লাস্টিক সার্জারি বলতে তখন বুঝানো হতো পাথরঘসে শরিরের সৌন্দর্য বর্ধন করাকে।এরপর কখোনো অতিরিক্ত চরবি অপসারন করে আবার কখোনো উচু হারের অংশ অপসারন করা হয়। এভাবে এসেছে বর্তমানের আধুনিক সিলিকনের সাহাজ্যে প্লাস্টিক সার্জারি। 

প্লাস্টিক সার্জারির ধরন

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই প্লাস্টিক সার্জারির ব্যবহার দেখা যায়। নিচে কয়েকটি প্লাস্টিক সার্জারির নাম দেওয়া হলোঃ

মুখের কসমেটিক সার্জারি

  • নাকের সৌন্দর্য (রাইনপ্লাস্টি )
  • কুঁচকে যাওয়া ত্বকের জন্য (ফেসলিফ্ট)
  • অস্ত্রোপচার ছাড়াই কুঁচকে যাওয়া ত্বকের সর্বশেষ চিকিত্সা থ্রেড (ফেসলিফ্ট)
  • চোখের পাতার জন্য (ব্লেফারোপ্লাস্টিক -ব্যাগি বরফ)
  • ব্রণ, মুখের দাগ এবং সূক্ষ্ম বলির জন্য (ডার্মাব্রেশন এবং মাইক্রোডার্মাব্রেশন)
  • চোয়াল এবং চিবুকের জন্য
  • অবাঞ্ছিত তিল দূর করুন
  • ব্রণের চিকিৎসার জন্য (ফটোথেরাপি)
Plastic-Surgery
প্লাস্টিক সার্জারি

 

স্তন কসমেটিক সার্জারি

  • সিলিকন ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট দিয়ে ছোট স্তন বড় করা (অগমেন্টেশন ম্যামোপ্লাস্টি)
  • শরীরের আকারের সাথে মানানসই করার জন্য অস্বাভাবিকভাবে বড় স্তন ছোট করা হয়( রিডাকশন ম্যামোপ্লাস্টি)
  • সঠিক জায়গায় ঝুলে থাকা স্তনকে ‘উন্নীত’ করুন (মাস্টোপেক্সি)

পেটের জন্য সার্জারি 

  • ছোট ছিদ্র দিয়ে পেটের অতিরিক্ত চর্বি অপসারণ করে ফিগারকে সুন্দর করতে। উরু, নিতম্ব, বাহু, ঘাড় এবং পুরুষের স্তনের আকৃতিও এই পদ্ধতিতে সামঞ্জস্য করা যায় (লাইপোসাকশন)
  • তলিয়ে যাওয়া পেটের চামড়া এবং অতিরিক্ত চর্বি কেটে ফেলা এবং পেটের আকৃতি পুনর্গঠন করা(এবডোমিনোপ্লাস্টি)

অন্যান্য

  • পুরু এবং ঝুলে যাওয়া বাহু পুনর্গঠন সার্জারি উরু প্লাস্টিক সার্জারি (ব্র্যাচিওপ্লাস্টি )
  • উরু প্লাস্টিক সার্জারি (থাইলিফ্ট)
  • টাক মাথায় প্রাকৃতিক এবং স্থায়ী চুল প্রয়োগ করা (হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট)

প্লাস্টিক সার্জারির খরচ কত? 

                                                  সার্জারির ধরন                                                খরচ
রাইনোপ্লাস্টি ১,০০,০০০- ১,৫০,০০০ টাকা
 লাইপোসাকশন ৫০,০০০ – ২,০০,০০০ টাকা
ডার্মাব্রেশন ১,০০,০০০ – ১,৫০,০০০ টাকা
স্তন বৃদ্ধি ১,০০,০০০ – ১,৫০,০০০ টাকা
পেট কমানো ১,০০,০০০ – ২,০০,০০০ টাকা
বিস্তৃত ফেসলিফ্ট ১,৫০,০০০ – ২,০০,০০০ টাকা

বর্তমানে দেশে বিদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। ভারতের মুম্বাইয়ের বেশ কিছু স্বনামধন্য হাসপাতাল রয়েছে যেগুলোতে ভালোমানের প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। এগুলোতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গের সার্জারি সহ জন্মগত ত্রুটি সার্জারির মাধ্যমে অপসারন করা হয়। প্লাস্টিক সার্জারি করার কিছু রিস্ক রয়েছে যেগুলো প্লাস্টিক সার্জারি করার পূর্বে অবশ্যই যেনে নেওয়া প্রয়োজন। আবার অনেক সেলিব্রেটি আছে যারা প্লাস্টিক সার্জারি করে নিজেদের সৌন্দর্য বাড়িয়েছেন বহুগুন। 

প্লাস্টিক সার্জারির সুবিধা

প্লাস্টিক সার্জারির সুবিধা গুলোর মধ্যে প্রধান হলো সৌন্দর্য বৃদ্ধি । প্লাস্টিক সার্জারি করে মুখমণ্ডল  ইচ্ছা মতো পরিবর্তন করা যায় যার কারনে নিজের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পায় । অনেকে তো তাদের বয়সও গোপন করে প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে। এতে করে যে প্লাস্টিক সার্জারি করায় তাকে অনেক তরুন দেখায়। প্লাস্টিক সার্জারি করার ফলে শরিরের সেই অঙ্গের পরিবর্তন আপনার মন মতো হয় সে কারনে সে ব্যাক্তির আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিপায় । অনেকের জন্মগত ত্রুটি সংসোধন করা সম্ভব হয় প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button