প্রযুক্তি

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবেন (বিগেনার গাইড)- জেনে নিন

ফ্রিল্যান্সিং কথাটি আপনি অবশ্যই শুনেছেন এবং আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং কি

ফ্রিল্যান্সিং হল একটি স্বাধীন ক্ষেত্রে কাজ করা যেখানে আপনি কারো দ্বারা নিযুক্ত নয় । ফ্রিল্যান্সাররা স্বনিযুক্ত অর্থাৎ তারা নিজেদের কোম্পানিতে নিজেরাই চাকরি করেন। ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন পেশা। প্রযুক্তির বিস্তারের সাথে সাথে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটির সাথে আমরা বেশি পরিচিত হতে শুরু করেছে। বর্তমানে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী ফ্রিল্যান্সিং পেশায় নিযুক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে 18 থেকে 22 বছর বয়সী তরুণরা ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে যুক্ত। একজন ফ্রিল্যান্সার নিজেকে স্বনিযুক্ত হিসেবে পরিচয় দেয়।

ফ্রিল্যান্সিং এর ধরন

ফ্রিল্যান্সিংয়ের রয়েছে বিভিন্ন ধরন। চুক্তির কাজ বা কন্ট্রাক্ট ওয়ার্ক অথবা কন্ট্রাক্ট জব এর মত কাজগুলো রয়েছে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে। কন্ট্রাক্ট কনসালট্যান্ট এর মত কাজ করে থাকে ফ্রিল্যান্সাররা। অনেকে ফুলটাইম কাজ করে অনেকে আবার তাদের ইচ্ছামতো কাজ করে। অনেকে চুক্তি অনুসারে কাজ করে অর্থাৎ তাদের ইচ্ছামতো সময়ে তারা কাজ করে। এটি ফ্রিল্যান্সারদের স্বাধীনতা দেয় ইচ্ছা মত কাজ করার।

ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি ফ্রীল্যান্স থেকে এসেছে যার অর্থ ভাড়ায় নেওয়া সৈন্য। এ কথাটি এসেছে মধ্যযুগীয় ভাড়াটে সৈন্য কে উল্লেখ করে।

ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে কাজ করে?

ফ্রিল্যান্সার খন্ডকালীন স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে কোন কাজ সম্পন্ন করে এবং তার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করে। কখনো কখনো ফ্রিল্যান্সাররা এক সপ্তাহ অথবা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তি তে কাজ করে থাকে। অনেকে আবার সময় হিসেবে কাজ করে থাকে সেই হিসেবে পেমেন্ট গ্রহন করে।। ফ্রিল্যান্সাররা নির্দিষ্ট কিছু পরিসেবা তাদের গ্রাহকদের দিয়ে থাকে এবং তার বদলে সে পেমেন্ট গ্রহন করে থাকে।

ফ্রিল্যান্সাররা তাদের নিজেদের জন্য একটি উপযুক্ত সময় বের করে যে সময় তারা কাজ করে। ক্লায়েন্টের কাজ সে দুর থেকেও করতে পারে অর্থাৎ এমন হতে পারে ক্লায়েন্ট অবস্থান করছে আমেরিকা এবং ফ্রিল্যান্সার অবস্থান করছে ভারতে তবুও সে তার ক্লায়েন্টের কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে । দূরত্ব ফ্রিল্যান্সারদের কাছে কোন সমস্যা না। আবার ফ্রিল্যান্সাররা একজন উদ্যোক্তা যারা কোন কোম্পানির হয়ে কাজ করে না বরং তারা নিজেদের রিপ্রেজেন্ট করে ক্লায়েন্টদের কাছে। ফ্রিল্যান্সারদের যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তাদের পেমেন্ট এর মান নির্ধারণ হয়।

 

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা ইনকাম করা যায়

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা ইনকাম করা যায় এই প্রশ্ন অনেকেই জানতে চেয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিং করে ঘন্টা অথবা দিনের ইনকাম করা যায়। কিন্তু ফ্রীলান্সিং এর জন্য অন্য কোন ইনভেস্টমেন্ট নেই সেই হিসেবে ফ্রিল্যান্সাররা যোগ্যতা অনুসারে অনেক বেশি ইনকাম করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সারদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি ম্যাটার করে । অভিজ্ঞতা অনুসারে ফ্রিল্যান্সাররা পেমেন্ট পেয়ে থাকেন এবং কাজের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা অনেক বেশি নির্ভর করে। একজন ফ্রীল্যান্সার যত বেশি অভিজ্ঞ এবং দক্ষতার ডিমান্ড ততবেশি।

একজন ফ্রীল্যান্সার প্রতি ঘন্টায় ২৫ ডলার থেকে ২৫ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। যারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ ধরনের কাজ গুলো করে তাদের ইনকাম ৭৫ থেকে ৮০  ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে প্রতি ঘন্টায়। তবে শুরুর ক্ষেত্রে একজন ফ্রিল্যান্সার ৫ থেকে ১০ ডলার উপার্জন করেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে কি ধরনের কাজ করা যায়

 

বর্তমানে অনেকগুলো ফ্রিল্যান্সিং সাইট তৈরি হয়েছে যেগুলো ফ্রিল্যান্সারদের কাজ অফার করে এবং ক্লায়েন্টের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ সুযোগ করে দেয়। ফ্রিল্যান্সিংয়ের অনেক ধরনের রয়েছে এর মধ্যে

  • ডিজাইন এবং ক্রিয়েটিভ কাজ
  • লেখালেখির কাজ
  • ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট
  • মোবাইল ডেভেলপমেন্ট
  • সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট
  • লিগাল জব
  • অ্যানালিটিকস জব
  • ডেটা সাইন্স জব
  • সেলস এবং মার্কেটিং জবস
  • ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার জব
  • ট্রানসলেশন জব
  • আইটি সেক্টর জব
  • এডমিন সাপোর্ট জব

এসকল কাজগুলো ওরা যে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে। বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সার এক বা একাধিক কাজে দক্ষ হয়ে ওঠে। ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা অনুযায়ী তাদের পেমেন্ট নির্ধারণ হয়

 

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে প্রবেশের পূর্বে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট কাজ নিয়ে আগাতে হবে। আপনি যে কণো একটি কাজে দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন এবং ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারেন খুব সহজেই। কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজ নিয়ে না আগালে ফ্রিল্যান্সিং এ টিকে থাকা কঠিন। ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে আরেকটি বাধা হলো ফ্রিল্যান্সিং এ আপনার কোনো বস বা নিরদেশদাতা থাকেনা যা একই সাথে ভালো এবং খারাপ। এটি আপনার স্বাধীনতা রক্ষা করে কিন্তু আপনার কোনো মেন্টর থাকে না যার ফলে অনেক সময় নিজের সকল বাধা নিজেকে পার হতে হয়। যদিও এটি একজন ফ্রিল্যান্সার এর দক্ষতা আর বাড়িয়ে দেয়।

আরো দেখুনঃ  গুগোল অ্যাডসেন্স কি? এডসেন্স থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button