স্বাস্থ

এলার্জি থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় – জেনে নিন

এলার্জি কি? যদিও এলার্জি একটি বহুল প্রচলিত শব্দ তারপরও এলার্জি সম্পর্কে এখনো সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না। শ্বাসকষ্ট, একজিমা সহ বিভিন্ন চর্ম রোগের কারণ এলার্জি। মানুষের শরীরে এক একটি রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম আছে। কোন কারণে এই ইমিউন সিস্টেম এ গন্ডগোল দেখা দিলে এলার্জির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। যা কখনো কখনো খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আমাদের দেশে এলার্জিতে ভোগেন এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছে । এক একটি মানুষের এলার্জির ধরন একেক রকমের। কারো দেখা যায় ধূলিকণায় এলার্জি, কারো দেখা যায় খাদ্যদ্রব্যে আলার্জি, কারো দেখা যায় বিভিন্ন কেমিক্যাল প্রসাধনীতে এলার্জি, কারো দেখা যায় বিভিন্ন পোশাক পরিচ্ছদে এলার্জি আবার কারো কারো স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহারে এলার্জি।

allergy bd seven 24
অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে

প্রতিটি মানুষেরই এই অস্বস্তিকর এলার্জি থেকে বাঁচতে হলে যে সকল বস্তুতে এলার্জি তা এড়িয়ে চলতে হবে। বর্তমানে “স্কিন প্রিক টেস্ট” নামে একটি পরীক্ষা আছে যা চামড়ার উপরে বিভিন্ন এলার্জেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, এ পরীক্ষা তে কোন কোন জিনিসে রোগীর এলার্জি তা নির্ণয় করে তালিকা তৈরি করে দেওয়া হয়। ফলে রোগী এলার্জি থেকে মুক্তি পেতে তালিকার সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে চললে অনেকটা স্বস্তিতে থাকবে।

 

 

এলার্জি থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া উপায়

শশা গাজরের রস

শরীরে এলার্জির চাকা চাকা দাগ দেখা দিলেই সমপরিমাণ শসা ও গাজর রস করে একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে চুলকানি ও চাকা চাকা দাগ মিলিয়ে যাবে।

গ্রিন টি

গ্রিন টি ওজন কমানোর কাজের পাশাপাশি এলার্জি ও কমায়। তাই হঠাৎ করে কারো এলার্জির সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথে এক কাপ গ্রিন টি পান করতে পারেন এতে এলার্জি অনেকটাই কমে যাবে।

অলিভ অয়েল ও মধু

অলিভ অয়েল ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে তা এলার্জির জায়গাতে লাগালে দ্রুত এলার্জির  অস্থিরতা কমে যায় ও দাগ মুছে যায়।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা মানুষের রূপচর্চায় যেমন কার্যকরী ঠিক অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকরী। অ্যালোভেরা ছোট ছোট টুকরো করে তার জেলী বের করে  এলার্জির জায়গায় লাগালে খুব দ্রুত এলার্জি কমে যায়।

কমলালেবু

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-সি এলার্জি কমাতে সহায়তা করে। সে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে কারো এলার্জি দেখা দিলে কমলালেবু খেতে পারেন এতে অল্পসময়ের মধ্যেই অস্বস্তিকর এলার্জির যন্ত্রণা কমে যাবে।

নারিকেলের তেল

শরীরে এলার্জি দেখা দিলে নারিকেলের তেল এলার্জির জায়গায়  মাখলে এলার্জি দ্রুত কমে যায়। সমস্ত শরীরের এলার্জি দ্রুত কমানোর জন্য গোসলের পানিতে নারিকেল তেল মিশিয়ে গোসল করা যেতে পারে।

পেট্রোলিয়াম জেলি

পেট্রোলিয়াম জেলি এলার্জির জায়গায় লাগিয়ে দ্রুত এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এক্ষেত্রে সুবিধা হল পেট্রোলিয়াম জেলিতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

allergy bd seven 24
পেট্রোলিয়াম জেলি এলার্জির জায়গায় লাগিয়ে দ্রুত এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়

ঠান্ডা পানি

হঠাৎ করে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিলে ঠান্ডা পানি দিয়ে সেক দিতে পারেন বা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করে নিতে পারেন এতে অ্যালার্জির সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

বেকিং সোডা

 

বেকিং সোডা ব্যবহার করেও দ্রুত এলার্জির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ১ কাপ পানিতে চামচের এক-তৃতীয়াংশ  বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে তা এলার্জির স্থানে লাগাতে হবে বা এক বালতি পানিতে হাফ কাপ বেকিং সোডা মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করে ৩০ মিনিট শরীর ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে গোসল শেষ করতে হব।

নিম পাতা ও ইসবগুলের ভুষি

 

অ্যালার্জি বা চুলকানি চিরতরে দূর করতে ঘরোয়া এ পদ্ধতিটি খুবই কার্যকরী। আমরা একটু কষ্ট করে এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করে এলার্জি থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে পারি। ১ কেজি নিম পাতা রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে শুকনো নিমপাতা ভালো করে গুঁড়া করে নিয়ে বয়ামজাত করতে হবে। ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ এর ৩ ভাগের ১ ভাগ নিম পাতার গুঁড়া ও ১ চা-চামচ ইসবগুলের ভুষি আধাঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। আধাঘন্টা পরে মিশ্রণটি ভালোভাবে মিশিয়ে  সকালে খালি পেটে, দুপুরে ভরা পেটে ও রাতে শোয়ার আগে এক টানা ২১ দিন খেতে হবে।

এলার্জির চিকিৎসা

  • “স্কিন প্রিক টেস্ট” এর মাধ্যমে এলার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া গেলে এবং সেগুলো পরিহার করে চললে অনেক ক্ষেত্রে এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া এলার্জির লক্ষণ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ঔষধ বাজারে পাওয়া যায় যা সেবন করলে এলার্জি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • পেভিসন মলম এলার্জির স্থানে লাগালে 5 মিনিটের মধ্যে এলার্জি কমে যাবে।
  • সারা শরীরে এলার্জি দেখা দিলে দ্রুত কমে যাওয়ার জন্য স্কয়ার কোম্পানির এলাট্রল খেতে পারেন এলাট্রল 24 ঘন্টায় একটি সেবন করতে হবে
  • এলার্জি থেকে দ্রুত শক্তি পেতে ওরাডিন সেবন করতে পারেন আর অরণ্যের মধ্যে পার্থক্য হল এলাট্রল বুম্বা ঝিমুনি ভাব আসে কিন্তু ওরাডিন ঝিমুনি ভাব আসে না এটিও 24 ঘন্টায় একটি সেবন করতে হবে
  • ফ্লোকোনাজল ৫মি:গ্রা: ২৪ ঘন্টায় ১টি বা ২ টি সেবন করতে পারেন। এলার্জির পরিমাণ খুব বেশি হলে ফ্লোকোনাজল ১৫০ মি:গ্রা: সেবন করা যাবে। এলার্জির জন্য খুবই কার্যকরী একটি মেডিসিন।
  • ভিটামিন-সি এলার্জি প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসেবে খুবই শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। দিনে ৩ বার ১০০০ থেকে ২০০০ মি:গ্রা: ভিটামিন-সি গ্রহণ করলে শরীরে এলার্জি কম হয়। সে ক্ষেত্রে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারও আমরা খেতে পারি যেমন :- কাঁচামরিচ, বাঁধাকপি, আলু, লেবু, কমলা লেবু, বাতাবি লেবু, টমেটো, আঙ্গুর, পেয়ারা ও কামরাঙ্গা ।
  • ভিটামিন এ ও জিংক  নিয়মিত সেবন করলে শরীরে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয়

ঔষধ সেবন না করে এলার্জি থেকে দূরে থাকতে হলে নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করতে হবে, বিছানা প্রতিদিন পরিষ্কার করে নিতে হবে, মশা ও পোকামাকড়ের কামড় থেকে দূরে থাকতে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, পরিধেয় পোষাক নিয়মিত পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুতে হবে, এলার্জিকর খাদ্য এড়িয়ে চলতে হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button