ইতিহাস

সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস – একটি পরাশক্তির পতন

১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচির ভাঙ্গার পর যখন পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতন ঘটে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের শুরু মুলত এখান থেকেই। যদিও ১৯৮৯ সালে বার্লিন ওয়াল ভেঙ্গে যাওয়ার পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্র টিকে ছিলো । সোভিয়েত এর কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মিখাইল গর্বাচেভ এর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে কট্টরপন্থি কমিউনিস্টরা । সে আন্দোলন  ব্যর্থ হয়ে গেলেও ১৫টি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতার আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠে এবং আন্দোলনের পক্ষে গণভোটের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে সোভিয়েত নেতারা একটি বৈঠক করে এবং সে বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত হয় সোভিয়েত ভাঙ্গার।

mikhail gorvachev
কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মিখাইল গর্বাচেভ

 

আর এ বৈঠকের পরই মুলত মিখাইল গর্বাচেভ  কার্যত অপ্রাসঙ্গিক  হয়ে পড়ে। ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর মিখাইল গর্বাচেভ এর পদত্যাগ এর মধ্য দিয়ে পতন ঘটে সোভিয়েত ইউনিয়নের।

সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয় ১৯২২ সালে এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে । এই আর্টিকেলে আমরা জানবো সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের পূর্বের ইতিহাস সম্পর্কে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিলো ইউরেশীয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ। সমাজতন্ত্র হচ্ছে এটি এমন একটি সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে কোনো ব্যক্তিমালিকানা থাকে না বরং সকল সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানাধিন থাকে। জনগনের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য পন্য বা অন্যান্য পন্য উৎপাদন করা হয়। সে সময় সোভিয়েতে সমতা নীতি ছিলো। সোভিয়েত ইউনিয়নের সকল প্রতিষ্ঠান কোনো নাম দারা নয় বরং নম্বর দিয়ে প্রকাশ করা হতো। সমাজতন্ত্রের মূলনীতি হলো

সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহন করা

সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিলো একদলীয় রাষ্ট্র ছিল । সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি ছিলো মুল দল।

সোভিয়েত ইউনিয়নের আয়তন ও জনসংখ্যা

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়ন । সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট আয়তন ছিলো ২,২৪,০২,২০০ বর্গকিলোমিটার (৮৬,৪৯,৫০০ বর্গমাইল) । শুধু একটি টাইম জোন বা সময় অঞ্ছল দারা পুর দেশের সময় কে প্রকাশ করা সম্ভব ছিলো না। সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট ১১ টি টাইম জোন ছিলো।মোট জনসংখ্যা ছিলো ২৯,৩০,৪৭,৫৭১।

ঞ্চিতmap of soviet
সোভিয়েত ইউনিয়নের মানচিত্র

সোভিয়েত ইউনিয়নের বৃহত নগর গুলো হলোঃ

  • লেনিনগ্রাদ
  • কিয়েভ
  • মিনস্ক
  • তাশখন্দ
  • আলমাতি
  • নভোসিবির্স্ক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সেনারা অর্থাৎ নাৎসি বাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমন করে।যদিও সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন রাজনইতিক অর্থনৈতিক ভাবে অনেক শক্তিশালী ছিলো তবুও হিটলার বাহিনী প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ সোভিয়েত সেনাকে হত্য করেছিলো বলে জানা যায়। তবে জার্মান সেনারা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল ভুখন্ডে নিজেদের জন্য সুবিধা জনক স্থান তৈরি করতে পারেনি। সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে তারা প্রায় ৪৫ লক্ষ জার্মান  সেনাকে হত্যা করে। জার্মানির পরাজয়ের প্রধান কারন হিসেবে ধরা হয় সোভিয়েত এর আবহাওয়া। রাশিয়ার প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়া জার্মান সেনাদের যুদ্ধের জন্য দুর্বিষহ হয়ে পড়ে এবং তারা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে যায়। সোভিয়েত এর শক্তিশালী লাল ফৌজ পরবর্তীতে জার্মানদের আক্রমন করলে পরাজয় ঘটে জার্মানির। এরপরই মুলত হিটলার এর পতন হয়।

সোভিয়েত ইউনিয়িনের রাষ্ট্রীয় ধর্ম

সোভিয়েত ইউনিয়নের কোনো রাষ্ট্রধর্ম ছিল না কারন সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি ছিল বস্তুবাদী মতাদর্শের দল। তাই নাস্তিকতাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা হতো। আর এ কারনের সোভিয়েত ইউনিয়নে ধর্ম পালন ভালো চোখে দেখা হতো না। যারা ধর্ম পালন করতো তাদের বিভিন্ন সমস্যার শিকার হতে হতো সে সময়। খ্রিষ্ট ধর্মের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলো পাশাপাশি ইসলাম ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষও ছিলো।

soviet

সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান ভাষা ছিলো রুশ।আইন সভার নাম ছিলো মহত্তম সোভিয়েত।মুদ্রার নাম সোভিয়েত রুবল।সোভিয়েত ইউনিয়ন পরিচালিত হতো কার্ল মার্ক্স ও ভ্লাদিমির লেনিনের সিদ্ধান্ত অনুসারে।কোনো ব্যাক্তি মালিকানা ছিলো না । সোভিয়েত নাগরিকরা তাদের সকল সুবিধা পেত সম্পূর্ণ বিনামুল্যে । জেনে অবাক হবেন সোভিয়েত ইউনিয়নে ছাত্রদেরও মাসিক বেতন প্রদান করা হতো এমন কি পোস্ট গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামুল্যে পড়াশোনার সুযোগ পেত সোভেয়েত ছাত্ররা। সোভিয়েত এর বেশিরভাগ পরিবার ছিলো মধ্যবিত্ত। তবে পানি,বিদ্যুৎ এ সকল সুবিধার জন্য অনেক বেশি ভর্তুকি দেওয়া হতো যার কারনে প্রায় বিনামুল্যে সোভিয়েত বাসিরা দৈনন্দিন সকল সুবিধা ভোগ করতে পারতো।

 

সোভিয়েত এর পতন সম্পর্কে তো ইতোমধ্যে জেনেই গেছেন। ১৯৯১ সালে মিখাইল গরভাচেভ এর পদত্যাগ এর মাধ্যমে পতন ঘটে ১৫ টি বৃহত নগর নিয়ে গঠিত সেই সময়ের সোভিয়ন ইউনিয়নের।নিচে সে সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের অঞ্চল গুলোর নাম দেওয়া হলোঃ

  • ইউক্রেনীয়
  • বেলারুশীয়
  • উজবেক
  • কাজাখ
  • জর্জীয়
  • আজারবাইজানি
  • লিথুয়ানীয়
  • মলদাভীয়
  • লাতভীয়
  • কিরগিজ
  • তাজিক
  • আর্মেনীয়
  • তুর্কমেন
  • এস্তোনীয়

এই ১৫ টি দেশ পরবর্তী তে পৃথক হয়ে যায় এবং একটি পরাশক্তির পতন ঘটে। যদিও এখন রাশিয়া পরাশক্তি ও বিশ্বের ২য় শক্তিশালী দেশ হিসেবে বিবেবচিত হয় কিন্তু সোভিয়েত যদি টিকে থাক্ত তাহলে তারা কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারতো তা হয়তো বুঝতেই পারছেন। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button