প্রযুক্তি

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং এ ক্লায়েন্ট খুঁজে বের করবেন – জেনে নিন

যারা ফ্রিল্যান্সিং নতুন শুরু করেছেন অথবা শুরু করবেন ভাবছেন তাদের জন্য ক্লায়েন্ট পাওয়া বা ক্লায়েন্ট খোঁজা অনেক বেশি সময় সাপেক্ষ। ক্লায়েন্ট ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব নয় অর্থাৎ আপনি যার জন্য কাজ করবেন সে হলো আপনার ক্লায়েন্ট। প্রথম গীগ পাওয়া টা ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে কঠিন অংশ। অনেক ফ্রিল্যান্সার শুরুর দিকে ক্লায়েন্ট পাওয়ার জন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করেন। অনেকে আবার ক্লায়েন্ট না পেয়ে ফ্রিল্যান্সিং ছেড়েছেন এমন উদাহরণও আছে।

ক্লায়েন্ট কি

ক্লায়েন্ট শব্দ দ্বারা সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যে আপনার কাছে তার পরিষেবাগুলি তুলে ধরে অথবা সে আপনার দ্বারা তার একটি প্রজেক্ট করিয়ে নিতে চায়। ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট শব্দটি প্রায় একই ধরনের মানে প্রকাশ করে। ফ্রিল্যান্সারদের যারা কাজ দেয় তারা ফ্রিল্যান্সারদের ক্লায়েন্ট। অর্থাৎ একজন ফ্রিল্যান্সার যে ব্যক্তির বা যে প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে সে ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান হল সে ফ্রিল্যান্সারের ক্লায়েন্ট।

ক্লায়েন্ট কিভাবে খুজে পাওয়া যাবে

ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট খুঁজে পেতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলে ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হবে। বিশেষ করে প্রথম ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়া ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি কঠিন হয় আপনি যদি এই পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করেন তাহলে প্রথমট ক্লায়েন্ট খুঁজে পেতে পারেন আপনি খুবই সহজে।

প্রথমে আপনার ক্লাইন্ট কে আপনি কি ধরনের পরিষেবা প্রদান করতে পারেন অথবা আপনার কোন বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডাটা এনালাইসিস এর মত দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং এর মাধ্যমে আপনার ক্লায়েন্টকে পরিষেবা প্রদান করতে পারেন। যে কাজগুলোর চাহিদা বেশী সে কাজগুলো করলে ক্লায়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

আরো দেখুনঃ  পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কি? কিভাবে একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করবেন - জেনে নিন

পোর্টফলিও এবং প্রোফাইল তৈরি করা

ক্লায়েন্টের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য আপনার অবশ্যই একটি পোর্টফোলিও প্রোফাইল থাকা প্রয়োজন। লিংকডইন, আপওয়ার্ক এর মত প্ল্যাটফর্মগুলোতে আপনার পোর্টফোলিও থাকলে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যাবে এবং ক্লায়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট আপনার কাজের ধরন কে এবং কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন তাই আপনার ক্লায়েন্ট আপনার উপর বেশি আস্থা রাখবে যদি আপনার পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট থাকে। তাই ক্লায়েন্ট পাওয়ার জন্য আপনার অবশ্যই একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট থাকা চায়। পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট কোন সিভি নয় বরং এটি আপনার কাজকে বর্ণনা করে এবং আপনি কি ধরনের কাজ করেছেন পূর্বে সেটি বর্ণনা করে। অনেকেই পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট এর সাথে সিভি মিলে ফেলে যার ফলে ক্লায়েন্ট পাওয়া সম্ভব হয় না।

পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট এ থাকতে পারে পূর্বে আপনি যে সকল কাজগুলো করেছেন তার একটি ওয়ার্ক স্যাম্পল, আপনার লেখা কিছু ব্লগ থাকতে পারি যে গুলো তাদের উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে, প্রশংসাপত্র থাকতে পারে যেগুলো আপনি অন্যান্য কোম্পানি থেকে পেয়েছেন।

আপনার ক্লায়েন্ট এর ধরন চিহ্নিত করা

ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট খুবই প্রয়োজন। ক্লায়েন্ট ছাড়া আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার অগ্রসর হবে না। তবে আপনার কি ধরনের ক্লায়েন্ট প্রয়োজন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্টের সাথে সাথে। তাই আপনি কি ধরনের ক্লায়েন্ট চাচ্ছেন অথবা আপনার কি ধরনের পরিষেবাগুলি আপনার ক্লায়েন্টকে দিতে যাচ্ছেন এ সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। আপনি ওয়েব ডেভলপমেন্ট এই দক্ষ হয়েছেন এবং আপনি চান web-development সম্পর্কিত ক্লায়েন্ট আপনার কাছে আসুক কিন্তু আপনি পাচ্ছেন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট এর কাজ যা আপনি দক্ষতার সাথে করে উঠতে পারবেন না। আর প্রথম কাজেই যদি আপনার দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ না ঘটে তাহলে পরবর্তীতে অবশ্যই ক্লায়েন্ট আপনাকে ভালো রিভিউ দেবে না এবং ক্লায়েন্ট অসন্তুষ্ট হবে যার ফলে দ্বিতীয় ক্লায়েন্ট পেতে আপনার আবারো বেগ পেতে হবে।
এমন পরিস্থিতি এড়াতে আপনি কি ধরনের ক্লায়েন্ট চাচ্ছেন অথবা আপনার কাছে ক্লায়েন্টের ডেফিনেশন কি এটি উল্লেখ করতে হবে।

আরো দেখুনঃ  গুগোল অ্যাডসেন্স কি? এডসেন্স থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

ফ্রিল্যান্সিং এর শুরুটা কিছুটা কঠিন হলেও পরবর্তীতে ক্লায়েন্ট পাওয়া খুব একটা কঠিন হয় না। আপনি যদি নিয়মিত দক্ষতার সাথে কাজ করে যেতে পারেন তাহলে আপনার ক্লায়েন্টের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। প্রথম ক্লায়েন্ট পেতে হয়তো এক সপ্তাহ 1 মাস অথবা এক বছর লাগতে পারে কিন্তু আপনার যদি প্রোফাইল ঠিক থাকে এবং দক্ষতা অনুযায়ী আপনি যদি কাজ জমা দিতে পারেন তাহলে পরবর্তীতে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে ক্লায়েন্ট খুঁজে পাবেন এবং এ সময় আপনার দক্ষতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। তাই প্রথম ক্লায়েন্ট পেতে কিছুটা দেরি হলে আপনার প্রোফাইলে কোনো ভুল আছে কিনা এবং আপনার সকল ডাটা সঠিক আছে কিনা সেদিকে খেয়াল করবেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে প্রথম ক্লায়েন্ট অথবা প্রথম প্রজেক্ট পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে। আপনি কি ধরনের কাজ করতে চান এবং আপনার ক্লায়েন্টকে ধরনের কাজ চায় সে অনুযায়ী আপনাকে কাজ করতে হবে। প্রথম দিকে কিছুটা সময় নিয়ে কাজ করতে হবে এবং দক্ষতা প্রকাশ করতে হবে। পোর্টফোলিও এবং প্রফাইল ক্রিয়েট করা খুবই জরুরি কারণ এর মাধ্যমে ক্লায়েন্ট আপনাকে চিনবে। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ অনেক দূর থেকে সম্পন্ন করা হয় তাই আপনার ক্লায়েন্ট আপনার উপর আস্থা রেখেছে কিনা সে বিষয়টি অনেক জরুরী। ক্লায়েন্টের আস্থা অর্জনের জন্য আপনার অবশ্যই একটি ভালো প্রোফাইল তৈরি করতে। আপনি যদি আপনার কিছু রিভিউ আপনার পোর্টফলিওতে অ্যাড করে রাখেন তাহলে সেটি আপনার আরো কাজ দিতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button